বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ও উৎসবমুখর আয়োজন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। প্রতি বছর টুর্নামেন্টটি ক্রিকেট ভক্তদের মাতিয়ে তোলে, আর জড়িয়ে নেয় জাতির আবেগকে। আর এই আসরে এবার যুক্ত হচ্ছে এক অভিনব নাম ও সম্ভাবনা। বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে নোয়াখালী জেলা। নোয়াখালী এক্সপ্রেস নামে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটি আসন্ন ২৬ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের মাঠ মাতিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি দলের অভিষেকই নয়, বরং দেশের ক্রিকেট মানচিত্রে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চলের সরাসরি প্রতিনিধিত্বের সূচনা, যা লিগের জনপ্রিয়তা ও সম্প্রসারণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

নোয়াখালী এক্সপ্রেস কেবল নামেই নতুন নয়, তারা ইতোমধ্যে একটি প্রতিশ্রুতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের মাধ্যমে নিজেদের একটি শক্তিশালী চ্যালেঞ্জার হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অভিজ্ঞ ও উদীয়মাণ তারকাদের সমন্বয়ে গড়া দলটি কোচিং ও ম্যানেজমেন্ট স্টাফের দিক থেকেও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে, ক্রিকেট মাঠের বাইরেও তাদের একটি চমকপ্রদ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত সবাইকে অবাক করেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে, নোয়াখালী ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, জিয়াউল হক পলাশকে।
আরও জানতে পারেনঃ নোয়াখালী এক্সপ্রেস স্কোয়াড বিপিএল ২০২৬এই নিযুক্তি একটি বিচক্ষণ ও সুদূরপ্রসারী রণনৈতিক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দল ও ভক্তদের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ক্ষেত্রে নোয়াখালীর পক্ষে পলাশের চেয়ে ভালো পছন্দ সম্ভবত কিছুই হতে পারত না। পলাশের জন্ম নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে। অর্থাৎ, তিনি এই অঞ্চলের মাটি ও মানুষের সাথে সরাসরি এবং আত্মিকভাবে যুক্ত। তার নিজস্ব জনপ্রিয়তা এবং জন্মস্থানের সাথে সম্পর্ক দলটিকে স্থানীয় জনগণের হৃদয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জায়গা করে নিতে সাহায্য করবে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে কেবল বিপিএলের একটি নতুন দলই নয়, বরং নোয়াখালী অঞ্চলের গর্ব ও পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পলাশের ভূমিকা অপরিসীম।
আরও জানতে পারেনঃ চট্টগ্রাম রয়্যালস খেলোয়াড় তালিকা ২০২৬একটি নতুন দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজস্ব একটি নিষ্ঠাবান ভক্ত গোষ্ঠী বা ‘ফ্যানবেজ’ তৈরি করা। যেখানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা বা সিলেটের দলগুলো আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত ভক্তবৃন্দ নিয়ে মাঠে নামে, সেখানে নোয়াখালীকে শুরু থেকেই এই জায়গাটি তৈরি করে নিতে হবে। পলাশ, তার বিশাল জনপ্রিয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শক্তিশালী উপস্থিতির মাধ্যমে, দ্রুততম সময়ে এই শূন্যতা পূরণ করতে সক্ষম হবেন। তিনি দলের প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যক্রম, এবং ম্যাচ ডে এক্সপেরিয়েন্সে সরাসরি যুক্ত থাকবেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি আসন্ন বিপিএলে ঢাকা, সিলেট কিংবা চট্টগ্রামের মাঠে নিয়মিত উপস্থিত থেকে দলের পাশে থাকবেন, যা ভক্তদের অনুপ্রাণিত করবে এবং মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
পলাশের ব্যক্তিগত জীবনকাহিনীও এই সংযোগকে আরো গভীর ও সত্যিকারের করে তোলে। নোয়াখালীর মাটিতে জন্ম নিলেও তার বেড়ে ওঠা ঢাকার নাখালপাড়ায়। গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলে পড়াশোনা শেষ করে কলেজে ভর্তি হওয়ার পরই তিনি চলচ্চিত্র শিল্পে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই সংগ্রামী ও সাধনার গল্প তাকে সাধারণ মানুষের কাছেও খুব আপন করে তোলে। একটি সহকারী পরিচালক থেকে দেশের শীর্ষস্থানীয় অভিনেতায় পরিণত হওয়ার তার যাত্রা অনেকটা নোয়াখালী এক্সপ্রেসের যাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ – একটি নতুন শুরু, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং শীর্ষে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের এই পদক্ষেপ বিপিএলের জন্যেও একটি নতুন মাত্রা যোগ করছে। এটি দেখাচ্ছে যে, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কেবল ক্রিকেটারদের নিয়েই চিন্তা করছে না, বরং একটি সমগ্র ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সাংস্কৃতিক আইকনদেরও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি লিগকে আরও বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে, বিশেষ করে যারা হয়তো নিয়মিত ক্রিকেট অনুরাগী নন, কিন্তু পলাশের মতো তারকাদের মাধ্যমে দলের সাথে সম্পর্কিত হতে পারবেন।
উপসংহারে বলা যায়, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপিএলে অভিষেক এবং জিয়াউল হক পলাশকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ – উভয়ই বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি স্থানীয় পরিচয়, জনপ্রিয় সংস্কৃতি এবং পেশাদার ক্রীড়াকে এক সুতোয় গেঁথে একটি শক্তিশালী সামাজিক-ক্রীড়া বন্ধন তৈরি করার চেষ্টা। নোয়াখালীর মাটি ও মানুষের গর্ব হিসেবে পলাশ যেমন দাঁড়িয়েছেন, তেমনি নোয়াখালী এক্সপ্রেসও এই টুর্নামেন্টে তাদের প্রতিভা, লড়াকু মনোভাব এবং অঞ্চলের সম্মান নিয়ে মাঠে নামবে। ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএল সত্যিই কেবল ক্রিকেটের নয়, বরং নতুন এক গল্পের শুরু, যেখানে নোয়াখালী এক্সপ্রেস এবং জিয়াউল হক পলাশ একসাথে লিখবেন জনতার হৃদয় জয়ের নতুন এক ইতিহাস।
